
তিন দফায় ধারাবাহিকভাবে মোট ১৩২ টাকা বাড়ানোর পর অবশেষে উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জ্বালানি জেট ফুয়েলের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। বৃহস্পতিবার (৭ মে) নতুন এই মূল্য সমন্বয় ঘোষণা করা হয়, যেখানে প্রতি লিটারে ২২ টাকা কমানো হয়েছে।
বিইআরসির ঘোষিত নতুন দামে অভ্যন্তরীণ রুটে ব্যবহৃত জেট ফুয়েলের প্রতি লিটার মূল্য ২২৭ টাকা ৮ পয়সা থেকে কমিয়ে ২০৫ টাকা ৪৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রেও জেট ফুয়েলের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি লিটার ফুয়েলের দাম ১.৪৮০৬ মার্কিন ডলার (শুল্ক ও ভ্যাট ব্যতীত) থেকে কমিয়ে ১.৩৩৮৫ ডলার করা হয়েছে।
নতুন এই মূল্য গত বুধবার মধ্যরাত ১২টা থেকে কার্যকর হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এতে দীর্ঘ সময় ধরে চলা মূল্যবৃদ্ধির ধারা কিছুটা হলেও থামল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জেট ফুয়েলের দাম গত কয়েক মাসে একাধিক দফায় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ছিল ৯৪ টাকা ৯৩ পয়সা। পরবর্তীতে ফেব্রুয়ারিতে সামান্য বৃদ্ধি পেয়ে তা দাঁড়ায় ৯৫ টাকা ১২ পয়সায়।
তবে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যসহ বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির চাপের কারণে পরবর্তী মাসগুলোতে জেট ফুয়েলের দাম দ্রুত বাড়তে থাকে। ফেব্রুয়ারির শেষদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে প্রভাব পড়ায় জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়।
এর সরাসরি প্রভাব পড়ে দেশের জেট ফুয়েলের দামে। মার্চের প্রথম দফায় প্রতি লিটার ফুয়েলের দাম একলাফে বেড়ে ১১২ টাকা ৪১ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। এরপর মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফায় আবারও বড় ধরনের মূল্য সমন্বয় করা হয়, যেখানে দাম বেড়ে দাঁড়ায় ২০২ টাকা ২৯ পয়সায়।
পরবর্তীতে এপ্রিল মাসে আরও এক দফা দাম বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের সর্বশেষ মূল্য দাঁড়ায় ২২৭ টাকা ৮ পয়সায়, যা চলতি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।
বিশ্লেষকদের মতে, জেট ফুয়েলের দাম বাড়া বা কমার সরাসরি প্রভাব পড়ে বিমান ভাড়া, এয়ারলাইন্স পরিচালনা ব্যয় এবং সামগ্রিক বিমান চলাচল খরচের ওপর। ফলে এই মূল্য সমন্বয় যাত্রী পরিবহন ও এভিয়েশন খাতে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নতুন এই মূল্য কমানোর সিদ্ধান্তের ফলে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উভয় রুটেই বিমান ভাড়া ও পরিচালন ব্যয়ে কিছুটা স্থিতিশীলতা আসতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


