
রাজধানীর মিরপুর এলাকায় জাল টাকা তৈরি ও বাজারজাত করার অভিযোগে জিসান আলম (১৯) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ জাল নোট এবং জাল টাকা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। শনিবার (২৩ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মিরপুর থানাধীন বারেক মোল্লা এলাকার ৬০ ফিট রোডে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। অভিযানটি পরিচালনা করে মিরপুর মডেল থানা পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় কয়েকদিন ধরে নজরদারি চালানো হচ্ছিল। পরে নিশ্চিত তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার সন্ধ্যায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় সন্দেহজনক আচরণ করায় জিসান আলমকে আটক করে পুলিশ। পরে তার সঙ্গে থাকা ব্যাগ ও বিভিন্ন সামগ্রী তল্লাশি করে জাল টাকা এবং জাল নোট তৈরির কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া জাল নোটের মধ্যে ছিল ৫০টি এক হাজার টাকার নোট, ৫৭টি পাঁচশ টাকার নোট, ৩৬টি দুইশ টাকার নোট এবং ৪৪টি একশ টাকার নোট। সব মিলিয়ে উদ্ধার হওয়া জাল টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় ৯০ হাজার ১০০ টাকা। এছাড়া জাল নোট তৈরির জন্য ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামও জব্দ করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে সরঞ্জামগুলোর বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি পুলিশ।
মিরপুর মডেল থানা সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে জিসান আলম কোনো সংঘবদ্ধ জাল টাকা চক্রের সদস্য। তিনি দীর্ঘদিন ধরে জাল নোট তৈরি ও সেগুলো বাজারে ছড়িয়ে দেওয়ার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তার অতীত কার্যক্রম, যোগাযোগ এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে জাল টাকা চক্রগুলো বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে। সাধারণ মানুষের অসচেতনতার সুযোগ নিয়ে এসব চক্র বাজারে জাল নোট ছড়িয়ে দেয়। ফলে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। তাই জাল টাকা প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে এবং সন্দেহজনক কার্যক্রমের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
এ ঘটনায় গ্রেফতার জিসান আলমের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মিরপুর মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে এবং তার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, জাল টাকা তৈরি ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


