
বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত ফার্নেস তেলের দাম লিটারপ্রতি ২৪ টাকা ৫৯ পয়সা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, প্রতি লিটার ফার্নেস তেলের দাম আগের ৭০ টাকা ১০ পয়সা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৯৪ টাকা ৬৯ পয়সায়। এই মূল্যবৃদ্ধি বিদ্যুৎ খাতের ব্যয় বাড়াতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।
রোববার (১২ এপ্রিল) বিইআরসি থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, নতুন নির্ধারিত দাম একইদিন রাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে। ফলে এর পর থেকেই দেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত ফার্নেস তেল নতুন দামে সরবরাহ ও বিক্রি হবে।
এর আগে দীর্ঘদিন ধরে ফার্নেস তেলের মূল্য নির্ধারণ করত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। তবে জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার এই ক্ষমতা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের হাতে ন্যস্ত করে। এর পর গত ফেব্রুয়ারিতে প্রথমবারের মতো বিইআরসি সরাসরি ফার্নেস তেলের দাম ঘোষণা করে। সর্বশেষ এই সিদ্ধান্তটি সংস্থাটির দ্বিতীয় মূল্য সমন্বয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিপিসির অধীনস্থ চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন কোম্পানি—পদ্মা অয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম, যমুনা অয়েল এবং স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল—নতুন নির্ধারিত দামে ফার্নেস তেল বাজারজাত করবে। এসব কোম্পানির মাধ্যমে সরবরাহকৃত তেলের বড় অংশই ব্যবহৃত হয় সরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)-এর বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রে। ফলে এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় এবং পরোক্ষভাবে গ্রাহক পর্যায়ের বিদ্যুতের দামের ওপর পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২ আগস্ট নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ফার্নেস তেলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকার মূল্য নির্ধারণের ক্ষমতা বিইআরসির কাছে হস্তান্তর করে। এ প্রেক্ষাপটে গত বছরের ২০ জানুয়ারি বিপিসি নতুন দামের প্রস্তাব জমা দেয়। পাশাপাশি তেল বিপণনকারী চারটি কোম্পানিও পৃথক প্রস্তাব দেয় কমিশনে। এসব প্রস্তাবের ভিত্তিতে দীর্ঘ সময় পর্যালোচনা শেষে গত ২৯ জানুয়ারি গণশুনানির আয়োজন করে বিইআরসি।
গণশুনানিতে অংশ নেন জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষ। তাদের মতামত ও প্রস্তাব বিশ্লেষণ করে অবশেষে নতুন এ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের দামের ওঠানামা, আমদানি ব্যয় এবং সরবরাহ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় এনে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।
এদিকে, ফার্নেস তেলের দাম বাড়ার ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা ভবিষ্যতে বিদ্যুতের দামে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সরকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে বলে জানা গেছে।



