জ্বালানি নিতে গাড়ির দীর্ঘ সারি, শেষ হচ্ছে না অপেক্ষা

জান্নাত জান্নাত

রিপোর্টার

প্রকাশিত: ১০:৪২ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১৬, ২০২৬

রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল নিতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি এখন নগরবাসীর জন্য এক পরিচিত দৃশ্যে পরিণত হয়েছে। এই দৃশ্যই স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে জ্বালানি সংকট ধীরে ধীরে প্রকট আকার ধারণ করেছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ভোর থেকে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, পেট্রোল পাম্পগুলোর সামনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল, বাস, ট্রাকসহ নানা ধরনের যানবাহন। অনেক ক্ষেত্রেই কয়েক শ মিটার দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়েছে, যা আশপাশের সড়কেও প্রভাব ফেলছে।
জ্বালানি পাওয়ার আশায় চালক ও গাড়ির মালিকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কেউ কেউ ভোরে এসে লাইনে দাঁড়ালেও দুপুর গড়িয়ে গেলেও তেল পাচ্ছেন না। এতে করে তাদের দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে, আর্থিক ক্ষতির মুখেও পড়ছেন অনেকে। বিশেষ করে পণ্যবাহী যান ও গণপরিবহন চালকদের দুর্ভোগ তুলনামূলক বেশি, কারণ তাদের প্রতিদিনের আয় নির্ভর করে গাড়ি চালানোর ওপর।
অনেক চালক জানান, আগের রাতে পাম্প বন্ধ থাকায় তারা জ্বালানি নিতে পারেননি। ফলে বাধ্য হয়ে কেউ কেউ রাত থেকেই পাম্পের সামনে অবস্থান নেন, যাতে সকালে লাইনের প্রথম দিকে থাকা যায়। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, এত কষ্ট করেও নিশ্চিতভাবে জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না। অনেকেই অভিযোগ করছেন, লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার পরও হঠাৎ করে তেল শেষ হয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে।
জ্বালানি সরবরাহ সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট তথ্যের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। কোথায় কখন তেল আসবে বা কতটুকু সরবরাহ দেওয়া হবে—এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা না থাকায় চালকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে কিছু চালকের অভিযোগ, সকালে ‘ভিআইপি সিরিয়াল’ নামে আলাদা একটি লাইন তৈরি করা হয়, যেখানে নির্দিষ্ট কিছু যানবাহন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। এতে সাধারণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে। যদিও পাম্প কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, তারা নিয়ম মেনেই জ্বালানি বিতরণ করছে।
ভুক্তভোগী চালক ও সাধারণ মানুষ দ্রুত এই সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, শুধু জ্বালানি সরবরাহ বাড়ালেই হবে না, বরং কোথায় কখন কতটুকু তেল দেওয়া হচ্ছে—সে তথ্য স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করা জরুরি। এতে করে অপ্রয়োজনীয় ভিড় ও বিশৃঙ্খলা অনেকটাই কমে আসবে।
এদিকে পাম্পগুলোর সামনে দীর্ঘ যানবাহনের সারির কারণে আশপাশের সড়কগুলোতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক জায়গায় সড়কের একটি বা একাধিক লেন দখল করে রেখেছে লাইনে থাকা গাড়িগুলো, ফলে সাধারণ যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে নগরজীবনের স্বাভাবিক গতি কমে যাচ্ছে।
প্রচণ্ড রোদ, তীব্র গরম এবং চারপাশে যানবাহনের অবিরাম শব্দ—সব মিলিয়ে অপেক্ষমাণ চালকদের জন্য পরিস্থিতি হয়ে উঠছে অসহনীয়। দীর্ঘ সময় ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে গিয়ে শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তিতে ভুগছেন তারা। দ্রুত সমাধান না হলে এই সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Facebook Comments Box